নিশিন্দা !!

 


নিশিন্দা

পরিচিতি

বাংলা নামঃ নিশিন্দা

ইংরেজি নামঃ Chaste Tree.

বৈজ্ঞানিক নামঃ Vitex negundo Linn.

পরিবারঃ Verbenaceae.

বাংলাদেশ প্রায় সর্বত্র এই গাছের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। নিশিন্দা বড় আকারের গুল্ম। ৩-৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ঘন শাখা-প্রশাখা থাকে। ২-৫ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা বৃন্তবিশিষ্ট যৌগিক পত্রের ৩/৫টি পত্রক থাকে। পত্রকগুলি অসমান ও বর্ষাকৃতির। ফুল নীলাভ ও বেগুন। পেনিকল ৩০ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ফল ছোট ডিম্বাকৃতির ও ড্রুপ।

  모 বিস্তৃতি

বংশবিস্তার

বীজ হতে বংশবিস্তার সম্ভব হলেও অঙ্গজভাবেই নিশিন্দার বংশবিস্তার সহজ ও প্রচলিত। শজিনার মতো এর কাটিঙের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়। অভিজাত নার্সারীতেও নিশিন্দর চারা পাওয়া যায়। বর্তমানে এর চাষের ব্যাপক প্রচলন না থাকলেও হেজ (hedge) উদ্ভিদ হিসেবে বহুল ব্যবহার রয়েছে

ঔষধি গুন

১। নিশিন্দার পাতা পরজীবী নাশক এবং এর যক্ষা ও ক্যানন্সারবিরোধী গুণ রয়েছে

২। পাতা গরম করে যে কোনো ফোলার উপর বা মচকানোর ব্যথা ও প্রদাহ স্থানে রেকে গরম কাপড় দিয়ে বেঁধে দিয়ে দিনে ৪/৫ বার বদলাবেন। এতে দুএকদিনের মধ্যে ফোলা কমে যাবে। দেহের যে কোনো স্থানের টিউমারে নিশিন্দা পাতা বেটে গরম করে প্রতিদিন লাগালে কয়েকদিনের মধ্যে টিউমার অদৃশ্য হয়ে যাবে

৩। পাতার রস বা পাতা বেটে সরিষার তেলে পাক করে সে তেল ২/১ ফোঁটা কানে দিলে কানের রোগ আরোগ্য হয়। কানের সব ধরণের ব্যথায় ক্ষতেও এটি ব্যবহার করা যায়

৪। পাতা চূর্ণ সিকি গ্রাম পরিমাণ খেলে (পূণবয়স্কদের জন্য) গুঁড়া কৃমির উপদ্রব কমে যায়

৫। নিশিন্দ গেঁটে বাত সারায় (Ghani, 2003), গেঁটে বাত (Gout) রোগে নিশিন্দার পাঁচন মোক্ষম ওষুধ। সঙ্গে যদি জ্বর থকে, তবুও এতে সুফল পাওয়া যাবে। ৫ গ্রাম পরিমাণ পাতা সিদ্ধ করে ছেঁকে সে পানি খেতে হয়। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাওয়া ঠিক নয়

অন্যান্য ব্যবহার

নিশিন্দা কাঠ ধূসর ও সাদা এবং শক্ত, ওজন ৬৭৩ কেজি/ঘণমিটার। নির্মাণ কাজ ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ছাই থেকে রং তৈরী হয়। 

নিশিন্দার উপকারিতা 

আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গাতেই নিশিন্দা চোখে পড়ে। গাছ খুবই কষ্টসহিষ্ণু এবং প্রতিকূলতার মাঝেও টিকে থাকতে পারে। রাস্তার ধার, জমির আইল, বাঁধের ধার, পতিত জমি, বন-জঙ্গল ও পাহাড়ের ঢালে নিশিন্দা গাছ জন্মাতে দেখা যায়। তবে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় নিশিন্দা গাছ বেশি দেখা যায়। গাছের কাঠ ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত। বৃদ্ধি ধীর গতিসম্পন্ন। গাছের কাঠের রং ধূসর থেকে সাদা। এর কাঠ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজ ও গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ছাই থেকে রং তৈরি করা হয়। গাছের শাখা-প্রশাখা অধিক। যৌগিক পাতা লম্বায় ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার। গঠন অসমান ও বর্শাকৃতির, অগ্রভাগ সূঁচালো এবং ৩ থেকে ৫ ফলক বিশিষ্ট। রং গাঢ় সবুজ। পাতা কচলালে উগ্র গন্ধ বের হয়

নিশিন্দার ফুল ফোটার মৌসুম বর্ষা ও শরৎকাল। এ সময়ে গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে লম্বা ঊর্ধ্বমুখী মঞ্জরিতে থোকায় থোকায় ছোট নীলাভ থেকে বেগুনি রঙের ফুল ফোটে। ফুল মঞ্জরির নিচ থেকে ফোটা শুরু হয়ে আস্তে আস্তে উপরেরগুলো ফোটে। ফুটন্ত ফুলের সৌন্দর্য নজরকাড়া। ফুল গন্ধহীন। ফুল শেষে গাছে ফল হয়। ফল আকারে ছোট ও ডিম্বাকৃতির। বীজ থেকে নিশিন্দার বংশবিস্তার করা যায়। তবে ডাল কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার সহজ ও প্রচলিত। বর্তমানে নিশিন্দা চাষের প্রচলন তেমন না থাকলেও হেজ (Hedge) উদ্ভিদ হিসেবে বহুল ব্যবহার রয়েছে। নিশিন্দার পাতা, ফুল, ফল, বীজ, মূল সবই ভেষজ গুণে গুণান্বিত। গরম পানিতে পাতার নির্যাস ক্রনিক ব্যথা, জ্বর, বাত জ্বর, বাতব্যথা, মাথাব্যথা উপশম করে। এছাড়া সব ধরনের চর্মরোগ, সর্দি, হাঁপানি, ঠাণ্ডাজনিত রোগে নিশিন্দা বেশ কার্যকর। কোথাও কোথাও নিশিন্দা পাতা সেদ্ধ করে ওই পানি দিয়ে শিশুদের গোসল করাতে দেখা যায়। এছাড়া নিশিন্দা গাছের শাখা-প্রশাখা ও পাতা পোকা-মাকড় দমন করে। বহুকাল ধরে কৃষিতে রয়েছে এর জৈব ব্যবহার। নিশিন্দা গাছের পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে বীজের সঙ্গে মিশিয়ে বীজ সংরক্ষণ করলে তাতে পোকার আক্রমণ হয় না। পাতার রস থেকে তৈরি করা জৈব কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশসম্মত ও অর্থ সাশ্রয়ী চাষাবাদে ভূমিকা রাখে। 

কিরণ চন্দ্র রায়ের কণ্ঠে ‘নিম তিতা নিশিন্দা তিতা, তিতা পানের খড় রে’, গানটি শুনতে বেশ ভালোই লাগে। আবার নিশিন্দার নীলচে বেগুনী ফুল দেখলে চুলে গুঁজে দেয়ার ইচ্ছাটাও মনে জাগতে পারে অনেকের।

কিন্তু নিশিন্দা খাওয়ার কথা বললে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলবেন অনেকেই। তবে তিতা স্বাদে ভরা নিশিন্দার গুণের কারণে এর কদর যুগে যুগে সমাদৃত।

নিশিন্দা গাছের পাতা, শিকড়, ফুল এবং ফল সব কিছুই উপকারী। খুঁজলে দেশের সর্বত্রই এ গাছের সন্ধান পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ জাতীয় আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিনোদন খেলা স্বাস্থ্য তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ওষুধি গুণে সমৃদ্ধ নিশিন্দা নিশিন্দা

কিরণ চন্দ্র রায়ের কণ্ঠে ‘নিম তিতা নিশিন্দা তিতা, তিতা পানের খড় রে’, গানটি শুনতে বেশ ভালোই লাগে। আবার নিশিন্দার নীলচে বেগুনী ফুল দেখলে চুলে গুঁজে দেয়ার ইচ্ছাটাও মনে জাগতে পারে অনেকের। কিন্তু নিশিন্দা খাওয়ার কথা বললে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলবেন অনেকেই। তবে তিতা স্বাদে ভরা নিশিন্দার গুণের কারণে এর কদর যুগে যুগে সমাদৃত।

নিশিন্দা গাছের পাতা, শিকড়, ফুল এবং ফল সব কিছুই উপকারী। খুঁজলে দেশের সর্বত্রই এ গাছের সন্ধান পাওয়া যাবে।

আসুন জেনে নেই নিশিন্দার গুণগুলো সম্পর্কে:

নিশিন্দা হাঁপানি ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে বিশেষ কার্যকরী।

নিশিন্দার পাতা পরজীবী নাশক এবং এটা যক্ষা ও ক্যান্সার প্রতিরোধক

পা মচকে গেলে বা ফুলে গেলে নিশিন্দার পাতা গরম করে আক্রান্ত স্থানে রেখে কাপড় দিয়ে বেঁধে দিয়ে দিন। দেড়-দু’ ঘণ্টা পর পর নতুন করে লাগান। দু-এক দিনের মধ্যে আরাম পাবেন। শরীরে কোনো স্থানে টিউমার থাকলে নিশিন্দা পাতা বেটে গরম করে প্রতিদিন লাগান। কয়েকদিনের মধ্যে ফল পাবেন। রান্নাঘরে পোকার উপদ্রব হলে নিশিন্দার ডাল-পাতা রেখে দিন। পোকার আনাগোনা কমে যাবে। নিশিন্দা পাতা চূর্ণ সিকি গ্রাম পরিমাণ খেলে গুঁড়া কৃমির উপদ্রব কমে যায়। তবে শিশুদের খাওয়াবেন না। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটা প্রযোজ্য হবে। কানের যেকোনো ধরনের ব্যথায় নিশিন্দা মহৌষধ হিসিবে কাজ করে। বাতের ব্যথায় নিশিন্দা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। কানে কোনো রোগ থাকলে নিশিন্দা পাতার রস কিংবা পাতা বেটে সরিষার তেলে পাক করে সে তেল ১ থেকে ২ ফোঁটা করে কানে দিন, রোগ ভালো হয়ে যাবে।


বাংলাদেশ সময়: ০৯৪৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩,২০২১

জেডএ


ʀᴇʟᴀᴛᴇᴅ ᴘᴏꜱᴛ













ʀᴇʟᴀᴛᴇᴅ ᴛᴀɢꜱ






Comments

Popular posts from this blog

নুতুন লিং ক ,,অনেক খোঁজার পর লিং কটা পাইলাম

নতুন করে ৩৫ ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তিতে বাফুফে, নেই আন্দোলন করা ১৮ জনের কেউ। প্রমাণিত হয়নি বাটলারের বিরুদ্ধে মেয়েদের অভিযোগ

আমাদের ডিভোর্সি মেয়েদের গুরুপে কয়েক জন ছেলে লাগবো কিন্তু শর্ত হলো গুরুপে যা যা হবে সব গোপন রাখতে হবে এড হলে রিকোয়েস্ট পাটাও লিংক কমেন্ট বক্স এ 👇👇👇👇